Close

Let’s Talk, Dhaka: Season 1, Episode 1


TDA ডেস্ক রিপোর্ট


সময়ের সাথে সাথে পুরো পৃথিবীই হয়ে যাচ্ছে প্রযুক্তি নির্ভর। পাল্টে যাচ্ছে আমাদের বিনোদনের ধরন ও উৎস। ২০১১ বা ২০১২ সালের দিকেও আমাদের কনটেন্টের প্রধান উৎস ছিল স্যাটেলাইট টেলিভিশন এবং মূলধারার সংবাদপত্র ভিত্তিক। কিন্তু ইন্টারনেট এক্ষেত্রে নিয়ে এসেছে বৈপ্লবিক পরিবর্তন। এখন আমাদের কনটেন্টের প্রধান উৎসে পরিণত হয়েছে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলো।

ডিজিটাল কনটেন্ট এর বর্তমান ও ভবিষ্যত এবং আমাদের সামাজিক প্রেক্ষাপটে ডিজিটাল কনটেন্টের ভূমিকা নিয়ে গত ১৭ আগস্ট দ্য ঢাকা অ্যাপোলোগ আয়োজন করেছিল পডকাস্ট সেশন ‘লেটস টক, ঢাকা’র প্রথম পর্ব। প্রথম পর্বের প্রতিপাদ্য ছিল “ডিজিটাল এজ অফ কনটেন্ট ক্রিয়েশন”। অতিথি হিসেবে ছিলেন রবি টেন মিনিট স্কুলের চিফ ইন্সট্রাক্টর ও ডিজিটাল কনটেন্ট নির্মাতা সাকিব বিন রশিদ শুভ, ডিজিটাল কনটেন্ট নির্মাতা শিহাব হাসান নিয়ন এবং কার্টুনিস্ট অন্তিক মাহমুদ। প্রায় দেড় ঘণ্টার এই প্রাঞ্জল আলোচনায় উঠে আসে ডিজিটাল কনটেন্ট ক্রিয়েশন এর ভেতর-বাহির, বাধা-বিপত্তি, সম্ভাবনা, কনটেন্ট ক্রিয়েশনের একাল-সেকাল সহ নানা বিষয়।

পডকাস্টের শুরুতেই চলে আসে ফেসবুক, ইউটিউবের অ্যালগরিদমের বিষয়টি। কনটেন্ট নির্মাতার স্বাধীনতার ক্ষেত্রে বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের অ্যালগরিদম কতটা প্রাসঙ্গিক, প্রশ্ন রাখা হয় অতিথিদের কাছে। সাকিব বিন রশিদ শুভর মতে, ফেসবুকের অ্যালগরিদম কনটেন্ট নির্মাণের ক্ষেত্রে সময়ের একটা মাত্রা বেঁধে দিচ্ছে। দর্শকদের চাহিদা ছোট ভিডিও কনটেন্টের। এ কারণে ফেসবুকের অ্যালগরিদমও ছোট ছোট কনটেন্টের দিকে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছে। ফলে কনটেন্ট ক্রিয়েটররাও ছোট ভিডিও কনটেন্টগুলোর দিকে ঝুঁকে পড়ছেন। তবে অল্প সময়ের কনটেন্ট নির্মাণ করতে গিয়ে কনটেন্টের মান সামগ্রিকভাবে কমে যাচ্ছে বলে সাকিব বিন রশিদের অভিমত।

অন্যদিকে ইউটিউবের অ্যালগরিদম ফেসবুকের তুলনায় দীর্ঘ সময়ের কনটেন্ট বানাতে উৎসাহিত করে বলে জানান অন্তিক মাহমুদ। আবার, কনটেন্ট নির্মাণের ক্ষেত্রে দর্শক চাহিদার কারণে না চাইলেও অনেক সময় বিভিন্ন বিষয়ের ওপর কনটেন্ট বানাতে হয় বলে স্বীকার করেন আলোচকদের সবাই।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোর কারণে বাক স্বাধীনতার ক্ষেত্রে এসেছে যুগান্তকারী পরিবর্তন।কোন বিষয়ে মত প্রকাশের ক্ষেত্রে আয়মান সাদিক বা আব্দুন নুর তুষার যতটুকু জায়গা পাচ্ছেন, সেই একই বিষয়ে একদমই অজ্ঞ একজন লোকের মন্তব্য করার জায়গা ঠিক ততটুকই। যার ফলে সমাজে বাড়ছে বিদ্বেষমূলক ,উস্কানিমূলক কিংবা কুরুচিপূর্ণ কনটেন্টের সংখ্যা। এক্ষেত্রে দর্শকদেরও কনটেন্ট নির্বাচনের ক্ষেত্রে বা সামাজিক যোগাগাযোগ মাধ্যমে তা শেয়ার দেয়ার ক্ষেত্রে যেমন সতর্ক হতে হবে, তেমনি কনটেন্ট ক্রিয়েটরদেরও সেলফ সেন্সরশিপের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে, এমনটাই অভিমত অতিথিবৃন্দের।

পডকাস্ট সেশনটির একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় ছিল কনটেন্ট ক্রিয়েশনের একাল-সেকাল। ২০ বছর আগের কনটেন্ট গুলোর তুলনায় কি এখনকার কনটেন্টের মান বাড়ছে নাকি কমছে। সাকিব বিন রশিদের মতে, মান বাড়ার বা কমার বিষয়টি সম্পূর্ণ আপেক্ষিক। অন্যদিকে শিহাব নিয়নের মতে, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোর কারণে আগের তুলনায় সৃজনশীলতার সুযোগ বেড়েছে বহুগুণে।

বর্তমানে প্রতিনিয়ত ডিজিটাল কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের নেতিবাচক মন্তব্যের শিকার হতে হচ্ছে। ভদ্রতার সীমা অতিক্রম করে আক্রমণ করা হচ্ছে তাদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে, তাদের পরিবার নিয়ে। কীভাবে এ ধরনের বিষয়গুলো মোকাবেলা করেন? এমন প্রশ্নের জবাবে শিহাব নিয়ন বলেন, দর্শকদের কাছ থেকে পাওয়া ভালোবাসা ও সমর্থন এই গুটিকয়েক নেতিবাচক মন্তব্যগুলোকে এড়িয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা দেয় তাকে।

কিছুদিন আগে হ্যাক হয় অন্তিক মাহমুদের ইউটিউব চ্যানেল। তার সাথে আলোচনায় উঠে আসে সাইবার সিকিউরিটিসহ নানা বিষয়। কনটেন্ট ক্রিয়েশনের ক্ষেত্রে সাইবার সিকিউরিটি নিয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ অন্তিক মাহমুদের।

প্রায় দেড় ঘণ্টার পডকাস্ট সেশনে আলোচিত হয়েছে ডিজিটাল কনটেন্ট ক্রিয়েশনের আদ্যোপান্ত। ডিজিটাল কনটেন্ট এখন বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে সম্ভাবনাময় একটি খাত। এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে সামাজিক পরিবর্তনের ক্ষেত্রে। ডিজিটাল কনটেন্ট হয়ে উঠুক সুস্থ বিনোদনের উৎস; এরকমই আশা সাকিব বিন রশিদ, শিহাব নিয়ন এবং অন্তিক মাহমুদের।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published.

3 + five =

Leave a comment
scroll to top