Close

কোভিড-১৯ মহামারী কি প্রমাণ করে নিওলিবারেলিজমের ব্যর্থতা?


ম তা ম ত


সাদিক মাহবুব ইসলাম


ফাইজার কোভিড-১৯ ভ্যাক্সিনের সফল প্রাথমিক ফলাফল প্রকাশ করে। ট্রাম্প প্রশাসন সাথে সাথেই দাবি করে — তাদের ‘অপারেশন ওয়ার্প স্পিড’ এর কারণেই ফাইজার এই সাফল্য অর্জন করতে পেরেছে। ওদিকে ফাইজারের কর্মকর্তারা দাবি করলেন এর ঠিক উল্টোটা। তারা বললেন, তাদের এই ভ্যাক্সিন কোনো সরকারি অনুদানের ফল নয়; বরং এটা ফাইজারের নিজস্ব রিসোর্স ব্যবহার করে উৎপাদিত।

ফাইজারের দাবির মাঝে সত্যতা থাকলেও তা পুরোপুরি সত্য নয়। ফাইজার মার্কিন সরকারের কাছ থেকে ভ্যাক্সিনের জন্য ১.৯৫ বিলিয়ন ডলারের ‘অ্যাডভান্স পারচেইজ এগ্রিমেন্ট’ করেছিল। মার্কিন সরকার ভ্যাক্সিনের জন্য সরাসরি অনুদান না দিলেও ১০ কোটি ভ্যাক্সিন উৎপাদনের আগেই কিনে নেয়। কাজেই টাকা নিয়ে চিন্তা করতে হয় নি ফাইজারকে, তারা নিশ্চিন্তে-ই ভ্যাক্সিনের জন্য পুঁজি বিনিয়োগ করতে পেরেছিল।

Success has many fathers — ইংরেজি এই প্রবাদবাক্যের বাস্তব উদাহরণ হতে পারে গল্পটি। কিন্তু একইসাথে কোভিড জয়ের এই গল্পটি একটা গভীর, ধূসর একটা বাস্তবতা আমাদের সামনে উন্মুক্ত করে দেয়। কোভিড-১৯ মহামারী নিও-লিবারেল ক্যাপিটালিজম বা উদারনৈতিক পুঁজিবাদের ব্যর্থতার একটা প্রকৃষ্ট উদাহরণ, যেটা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে যে কর্পোরেশনগুলো সংকট মুহূর্তে কীভাবে হাত-পা ছেড়ে দেয়।

কোভিড-১৯ মহামারী বিশ্বকে বিপর্যস্ত করে ছেড়েছে। উৎপাদন বন্ধ হয়ে আছে, বেকারত্ব আকাশ ছুঁয়েছে, স্বাস্থ্যব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। ১৯২০ এর দশকের মহামন্দার মতো আরেকটি ঘোরতর অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। বিশ্বের প্রায় সব দেশের অর্থনীতি যাচ্ছে একটা সংকটের মধ্যে দিয়ে। এই মহামন্দার জন্য দায়ী কে? এক বাক্যে সবাই মেনে নেবে, এখানে খলনায়ক করোনাভাইরাস। কিন্তু করোনাভাইরাসের ওপর সব দায় চাপিয়ে দিলে কি সমস্যা মিটে যাবে? নাকি এটা কেবলই উদারনৈতিক পুঁজিবাদের ব্যর্থতা ঢাকার একটা প্রচেষ্টা? ভাইরাসের ওপর দায় চাপিয়ে দিলে অনেক ত্রুটিপূর্ণ পলিসির পক্ষে যুক্তি দেয়া যায় – লকডাউন, ট্র্যাভেল ব্যান, ইনডিস্ক্রিমিনেন্ট কোয়ারেন্টাইন ইত্যাদি ইত্যাদি। কিন্তু আসলে যে এই অর্থনৈতিক দর্শনের মাঝেই লুকিয়ে আছে ক্রটি, এর পতন কেবল ত্বরান্বিত করেছে করোনাভাইরাস, এটা মেনে নিয়ে পলিসি পর্যালোচনা করার মতো সৎসাহস বেশিরভাগ রাজনীতিবিদ, অর্থনীতিবিদদের কম-ই আছে। 

বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেয়া স্বাস্থ্যব্যবস্থা, শিক্ষাখাত, শ্রম আইন, আর্থিক অসাম্য এসব গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু চেপে যাওয়া বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলার বদলে সবাই উগ্র জাতীয়তাবাদী রাজনীতি, রাষ্ট্রীয় নজরদারি আর বিরাট সব প্রণোদনা প্যাকেজ নিয়ে ব্যস্ত। পশ্চিমা দেশগুলো আপৎকালীন স্ট্র্যাটেজি হিসেবে একের পর এক গরিব-মারা সিদ্ধান্ত নিয়ে যাচ্ছে। এখন তথাকথিত ‘নিও-নরমাল দুনিয়ায়’ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীগুলো হতে যাচ্ছে আরো বেশি নাজুক।

নিও-লিবারেলিজম বা উদারনীতিবাদ হলো এমন এক দর্শন যা প্রচার করে অর্থনীতিতে সরকারি হস্তক্ষেপ হতে হবে ন্যূনতম। এখানে মুক্তবাজারের মুনাফা আদায়ের কলাকৌশলই বাজার নিয়ন্ত্রণ করবে। অর্থনীতির ভাষায় ‘অদৃশ্য হাত’ সবকিছু জাদুর মতো ঠিক করে ফেলবে। এই অর্থনৈতিক দর্শনটা এসেছে ফরাসি Laissez-faire মতবাদ থেকে। কথাটার শাব্দিক অর্থ হলো: একা ছেড়ে দাও (কিমাশ্চর্য!)। 

কিন্তু এই মুনাফা অর্জনের প্রতিযোগিতা আর সরকারকে নখদন্তহীন বাঘ বানিয়ে ফেলার ফল হলো শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক সুরক্ষার মতো বিষয়গুলোও এখন পণ্য হয়ে গেছে। আইএমএফ বা বিশ্বব্যাঙ্কের মুক্তবাজার অর্থনীতির বটিকা সেবন করে ইউরোপ-আমেরিকা-দক্ষিণ এশিয়ার অনেক অনেক দেশ এখন কোভিড-১৯ মহামারীতে দিশেহারা। এটা বোঝানোর জন্যই নিউইয়র্কের রাজপথে একটা ব্যানার ঝোলানো হয়েছিল: Capitalism is the Virus.

নিও-লিবারেলিজম গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থার ভিত্তিতে কুঠারাঘাত করে যাচ্ছে গোড়া থেকেই। মুনাফা অর্জনই যে দর্শনের একমাত্র লক্ষ্য, সে ব্যবস্থায় সঙ্ঘবদ্ধ সামাজিক কার্যক্রম বা ন্যায়বোধের মূল্য কম থাকবে এটাই স্বাভাবিক। নিও-লিবারেলিজম রাষ্ট্রের পলিটিক্যাল এলিট আর ইকোনমিক এলিটদের মিলেমিশে একাকার করে ফেলেছে। এর ফলে রাষ্ট্রব্যবস্থার সাথে নাগরিকদের সম্পর্ক হয়ে গেছে দুর্বল। এর ফলে নিও-লিবারেল দর্শনে বিশ্বাসী রাষ্ট্র সরে গেছে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক নিরাপত্তা খাত থেকে। 

বেসরকারি স্বাস্থ্যখাত কোনো মহামারীর জন্য প্রস্তুত ছিল না। কারণ এখানে অর্থনীতির বেসিক সূত্র: চাহিদা কমালে দাম বাড়ে এর উপর নির্ভর করে হাসপাতাল, সেবাকেন্দ্রের সংখ্যা সীমাবদ্ধ রেখেছে। একই সাথে সরকারের অংশগ্রহণ না থাকার কারণে প্রয়োজনীয় সময়ে সরকার স্বাস্থ্যখাতের নিয়ন্ত্রণও নিতে পারছে না। ফলে কোটি কোটি মানুষ সেবাবঞ্চিত থাকছে; রাষ্ট্র হচ্ছে দুর্বল। ওদিকে সামাজিক নিরাপত্তা, শ্রম আইনের প্রয়োগ না থাকার কারণে কোভিড-১৯ এর ফলে ছাঁটাই হয়ে যাওয়া লাখ লাখ কর্মজীবীর কোনো নিরাপত্তা নেই; তাদের দেখভালের দায়িত্বও কেউ নিচ্ছে না। ফলে এই দুর্যোগে দুর্বল হয়ে যাওয়া মানুষেরা হয়ে যাচ্ছে অসহায়।

পুঁজিবাদী অর্থব্যবস্থাতে শ্রমিকরা কম মজুরি পায়। ফলে তাদের শিক্ষা, বাসস্থান, চিকিৎসা সবকিছুই হয় কমজোরি। এরকম পরিবেশে থাকার কারণে তাদের স্বাস্থ্য ভেঙে যায়, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস পায়, জীবনীশক্তি কমে যায়। এর ফলে সহজে মহামারীতে তারা আক্রান্ত হতে পারে। আর নিও-লিবারেলিজম অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির নামে বৈষম্য এবং অসমতার এক বীভৎস পরিবেশ সৃষ্টি করেছে পৃথিবীতে। এর ফলে মানবজাতি যখন এই মহামারী কাটিয়ে উঠবে, তখন তাকে দিতে হবে চড়া মাশুল।

২০০৮-০৯ সালের বৈশ্বিক মন্দার পর থেকেই বিশ্বজুড়ে শুরু হয় কৃচ্ছ্রসাধন। এই কৃচ্ছ্রসাধন করে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার দেয়া হচ্ছিল বড় বড় কর্পোরেশনকে। আর এই টাকা আসছিল শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সেবাখাত থেকে। এর ফলে আমরা যে রাষ্ট্রব্যবস্থা পাই, তা মোটামুটি একটা অলিগোপলিস্টিক রেজিম, যেখানে একটা গোষ্ঠী রাষ্ট্রের বেশিরভাগ জায়গা দখল করে বসে থাকে। আর এই গোষ্ঠীর পুঁজি সঞ্চয়ের জন্য সমাজের সকল স্তর থেকে টেনে বের করে আনা হচ্ছে অর্থ। এই ভয়ানক শোষণের ফলে ক্রমেই দুর্বল হয়ে আসে রাষ্ট্রের কল্যাণকারী দিকগুলো। ওদিকে সরকারও দ্রুত সরে আসতে থাকা তার সামাজিক দায়িত্ব থেকে। ১৬৮৫ সালে ওয়েস্টফালিয়ার চুক্তি অনুযায়ী যে কল্যাণ রাষ্ট্র গড়ে উঠছিল, তা ক্রমেই পরিণত হয় একটা পুঁজিবাদী কর্পোরেট স্টেট। এ দিকটি প্রকটভাবে প্রকাশ পায় স্বাস্থ্যখাতে।

নিও-লিবারেলিজমের চিন্তাই হলো স্বাস্থ্যসেবাকে পণ্য বানিয়ে বেচাকেনা করা। গত চল্লিশ বছরে আইএমএফের পরামর্শ মোতাবেক স্বাস্থ্যখাতকে ধীরে ধীরে প্রাইভেটাইজ করা হয়েছে। এখন শিক্ষা, স্বাস্থ্যের মতো মৌলিক চাহিদাকেও কিনতে হচ্ছে নাগরিকদের। ২০০৮ সালের মন্দার পর বিশ্বজুড়ে যে অসন্তোষ দেখা দেয়, সেই অসন্তোষকে পুঁজি করে নিওলিবারেলিজম একগাদা প্রতিশ্রুতি নিয়ে দৃষ্টিপটে আসে। কিন্তু কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, ক্রয়ক্ষমতার উন্নতি বা ট্রিকল-ডাউন থিওরির মতো গালভরা বুলি মুখ থুবড়ে পড়েছে এই মহামারীতে।

স্পেন, ইতালির মতো দেশগুলো ২০০৮ সালের মন্দার পর দ্রুত প্রাইভেটাইজেশন শুরু করে। দ্রুত কমে আসে স্বাস্থ্য, সামাজিক সুরক্ষা খাতে ব্যয়। এর ফলে কোভিড-১৯ এর আঘাতে সবচেয়ে বেশি বিপর্যস্ত দেশগুলোর মধ্যে আছে এ দেশ দুটি।

ইউনিভার্সাল হেলথ কেয়ারের একটা উৎকৃষ্ট উদাহরণ ছিল গ্রেট ব্রিটেনের বেভারিজ মডেল। এ ব্যবস্থায় ৮৫% চিকিৎসা খাত ছিল সরকারের অধীনে। আর সার্জারি বা ক্যান্সারের মত ১৫% ছিল বেসরকারি খাতে। ২০০৮ সালের পর ব্রিটেনের কনজারভেটিভ সরকার কৃচ্ছ্রসাধন করে স্বাস্থ্যখাতে ব্যয় কমিয়ে আনে। এখন এর ফলে এক বছরের লকডাউন দিয়েও কোভিড-১৯ কে থামানো যাচ্ছে না।

আটলান্টিকের ওপারে আমেরিকা একেবারে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে কোভিডের কারণে। মহামারীর গোড়াতেই ট্রাম্প পাত্তা দেন নি; বলেছিলেন, এটা চাইনিজ ভাইরাস। এরপর একে একে সব রকমের উটকো কাজকারবার করে মার্কিন জনগণকে বিপদের মুখে ঠেলে দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রচারণা শুরু করেন ট্রাম্প। এর ফলে এখন আমেরিকা ভেঙে পড়ছে মহামারীতে।

জার্মানি, সুইডেন, নরওয়ে, ডেনমার্ক অথবা নিউজিল্যান্ড তুলনামূলকভাবে ভালো অবস্থানে আছে। এসব দেশে কোভিডের ফলে দ্রুত ধসে পড়ে নি অর্থনীতি। এর একটা আলাদা কারণ আছে। এসকল দেশে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী অত্যন্ত শক্তিশালী। ইঙ্গো-মার্কিন পুঁজিবাদের সাথে এই পুঁজিবাদের পার্থক্য এখানেই। প্রথম ধরনের পুঁজিবাদকে বলা যায় গলাকাটা পুঁজিবাদ; অপর ধরনের পুঁজিবাদকে বলা যায় আদুরে পুঁজিবাদ। গলাকাটা পুঁজিবাদ উদ্ভাবন, দ্রুত অর্থনৈতিক বিকাশের জন্য ভালো; আদুরে পুঁজিবাদ ভালো সাম্য ও সুরক্ষার জন্য।

এসকল পুঁজিবাদী দেশগুলোর কয়েকটা বিশেষ পলিসির জন্য ঘটছে এরকম বিপর্যয়। ইন্স্যুরেন্স না থাকলে সেবা না দেওয়া, কর্মহীনদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা না করা, প্রয়োজনীয় মাস্ক, পিপিই ইত্যাদি সরবরাহ করতে ব্যর্থ হওয়া, জনগণের কথা না ভেবে বড় বড় কর্পোরেশনকে বাঁচাতে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ঢেলে শেয়ার মার্কেটকে চাঙা রাখা — এ সকল কারণে ক্রমশ দুর্বল হয়ে গেছে দেশগুলো।

বিস্ময়কর হলেও সত্য: চীন, কিউবা, ভিয়েতনাম কিংবা ভারতের কেরালা রাজ্য কিন্তু সফল কোভিড-১৯ এর বিরুদ্ধে। এদের সবার মাঝেই আছে একটা মিল — এগুলো সোশ্যালিস্ট শাসনব্যবস্থায় চলে। (কিন্তু অর্থনীতিবিদরা যে তাহলে সোশ্যালিজমকে ব্যর্থ বলেন?)

সোশ্যালিস্ট প্রতিষ্ঠানগুলো কেন মহামারী মোকাবেলায় এত সফল হলো, তার পেছনে বেশ কিছু কারণ আছে। সোশ্যালিস্ট দেশগুলো প্রথমেই মহামারী মোকাবেলাকে তাদের পয়লা নাম্বার প্রায়োরিটি বানিয়েছিল। সরকারি ব্যবস্থাপনায় সমন্বিত প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছিল। সর্বোপরি সোশ্যালিস্ট দেশগুলো নিও-লিবারেল পলিসি মেনে তাদের স্বাস্থ্যব্যবস্থার বারোটা বাজিয়ে দেয় নাই।

কিন্তু সমস্যা হলো সোশ্যালিজমের ছায়াটা দেখলেও নিও-লিবারেলরা ডন কুইক্সোটের মতো তলোয়ার ঘোরাতে শুরু করে দেয়। তাই ওদের সাফল্য থেকে শিক্ষা না নিয়ে উল্টো জুজুর ভয় দেখানো হচ্ছে জনগণকে।

নব্বইয়ের দশকে বিশ্বব্যাঙ্কের মত সংস্থাগুলো দুর্বল রাষ্ট্রব্যবস্থা বোঝাতে Fragile State শব্দটা ব্যবহার করত। এই ক্যাটাগরিতে পড়ার জন্য একটা মানদণ্ড ছিল মহামারী প্রতিরোধের রাষ্ট্রের ব্যর্থতা। ২০০৪ সালের ইউএস ইন্সটিটিউট ফর পিসের রিপোর্টে ব্যর্থ রাষ্ট্রের বৈশিষ্ট্য আর ২০০৫ সালের Failed State Index এ একই রকম মানদণ্ড ছিল।  

এখন নিও-লিবারেল ক্যাপিটালিজম বিশ্বের হর্তাকর্তা দেশগুলোকে Fragile State বানিয়ে ছাড়ে কিনা, তা সময়ই বলে দেবে।

 


সূত্র:

  1. Acemoglu, Daron, James A. Robinson, and Thierry Verdier. 2012. “Can’t We All Be More Like Scandinavians? Asymmetric Growth and Institutions in an Interdependent World”. SSRN Electronic Journal. doi: 10.2139/ssrn.2132939
  2. Ahlbach, Christopher, Teresa King, and Elizabeth Dzeng. 2020. “The Covid-19 Pandemic and Ethical Challenges Posed By Neoliberal Healthcare”. Journal of General Internal Medicine 36 (1): 205-206. doi: 10.1007/s11606-020-06316-w
  3. Best, Jacqueline. 2020. “The Quiet Failures of Early Neoliberalism: From Rational Expectations to Keynesianism in Reverse”. Review of International Studies 46 (5): 594-612. doi: 10.1017/s0260210520000169
  4. “Covid and the Nature of Capitalism | VOX, CEPR Policy Portal”. 2021. Voxeu.org. voxeu.org/article/covid-and-nature-capitalism
  5. Erol, Alkim. 2020. “Covid-19: A Shortcut to Surveillance Capitalism?”. Comein, no. 101. doi:10.7238/c.n101.2050
  6. Nayak, Bhabani. 2021. “Capitalist States Failed During Covid-19 Pandemic. Where’s the ‘Failed State’ Theory Now?” outlookindia.com. outlookindia.com/website/story/opinion-capitalist-states-failed-during-covid-19-pandemic-wheres-the-failed-state-theory-now/352886
  7. Saad-Filho, Alfredo. 2020. “From Covid-19 to the End of Neoliberalism”. Critical Sociology 46 (4-5): 477-485. doi: 10.1177/0896920520929966
  8. Singh, Paramjit. 2021. “Beyond The COVID-19 Pandemic: Gauging Neoliberal Capitalism and the Unipolar World Order”. International Critical Thought, 1-20. doi: 10.1080/21598282.2020.1869995
  9. “The Pandemic is Showing Us How Capitalism is Amazing, and Inadequate”. 2021. Nytimes.com nytimes.com/2020/11/14/upshot/coronavirus-capitalism-vaccine.html
  10. van Barneveld, Kristin, Michael Quinlan, Peter Kriesler, Anne Junor, Fran Baum, Anis Chowdhury, and PN (Raja) Junankar et al. 2020. “The Covid-19 Pandemic: Lessons on Building More Equal and Sustainable Societies”. The Economic and Labour Relations Review 31 (2): 133-157. doi: 10.1177/1035304620927107
  11. Waitzkin, Howard. 2020. “Covid-19 as Cause Versus Trigger for the Collapse of Capitalism”. International Journal Of Health Services, 002073142097771. doi: 10.1177/0020731420977711
  12. Wallis, Victor, and Mingliang Zhuo. 2020. “Socialism, Capitalism, and the Covid-19 Epidemic: Interview With Victor Wallis”. International Critical Thought 10 (2): 153-160. doi: 10.1080/21598282.2020.1783920
  13. Yang, Dali L. 2020. “The Covid-19 Pandemic and the estrangement of US-China Relations”. Asian Perspective. doi: 10.1353/apr.0.0001

 

Leave a Reply

Your email address will not be published.

three × 3 =

Leave a comment
scroll to top