Close

‘নেটওয়ার্কের বাইরে’: বন্ধুত্ব আর তারুণ্যের গল্প 


রি ভি উ – সি নে মা


তানজিনা তাবাস্‌সুম নোভা


মিজানুর রহমান আরিয়ান পরিচালিত নেটওয়ার্কের বাইরে প্রেমের গল্প বলে, তারুণ্যের গল্প বলে। তবে সবকিছু ছাপিয়ে চরকি-র এই ওয়েবফিল্মটি বন্ধুত্বের গল্প বলে।

গল্পটা চার বন্ধুকে নিয়ে। চারজন চার ধরনের। আবির (শরীফুল রাজ) ধনী পরিবারের ছেলে, প্রেমঘটিত সমস্যা ছাড়া তার জীবনে আর তেমন কোনো ঝামেলা নেই। রাতুল (ইয়াশ রোহান) মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে, জীবনের অনেক কঠিন দিক সে এর মধ্যেই দেখে ফেলেছে। মুন্না (খায়রুল বাশার) গায়ক, অ্যালবাম বের করার স্বপ্ন দেখে। আর সিফাত (জুনায়েদ) বেশ ভালো ছাত্র, সিরিয়াস প্রেমিক, তবে একটু সহজ-সরল।

সদ্য গ্র্যাজুয়েশন শেষ করা এই চার বন্ধু সিদ্ধান্ত নেয়, তারা প্রথমবারের মতো একসাথে কোথাও বেড়াতে যাবে। কথামতো কক্সবাজার আর সেন্টমার্টিনস দ্বীপে বেড়াতে যাবে। তাদের যাত্রার সময়টা, এর আগে-পরের ঘটনা নিয়ে বাকি গল্প এগিয়ে যায়।

বন্ধুত্ব মানে তো শুধু মিষ্টি কোনো সম্পর্ক নয়, এর মধ্যে অনেক টক-ঝাল ব্যাপারও আছে। বন্ধুদের মধ্যে দুষ্টুমি, খুনসুটি, মান-অভিমান থেকে শুরু করে ঝগড়া, হাতাহাতি-মারামারি যেকোনো কিছুই হতে পারে। এই জিনিসটা এই সিনেমায় বেশ ভালোভাবেই দেখানো হয়েছে। এখানে বন্ধুরা যেমন একে অন্যকে খ্যাপায়, জ্বালায়, ঝগড়াঝাঁটি-মন কষাকষিও হয়, তেমনি একজনের বিপদে অন্যজন ঠিকই সবার আগে এগিয়ে আসে। বন্ধুত্ব তো এরকমই।

সিনেমার চিত্রনাট্য যথেষ্ট ভালো ছিল। বেশ কিছু মজার মজার সংলাপ পুরো সিনেমা জুড়ে ছিল। সিনেমাটোগ্রাফি ছিল দুর্দান্ত। আবহসঙ্গীত আর গানও শ্রুতিমধুর।

অভিনয়ের ক্ষেত্রে শরীফুল রাজ আর ইয়াশ রোহান দারুণ ছিলেন। খায়রুল বাশারও ভালো। জুনায়েদের অভিনয় একটু আড়ষ্ট মনে হয়েছে, দুই-এক জায়গায় অতি-অভিনয়ও ছিল। আর বাকিদের কথা বলতে গেলে নাজিয়া হক অর্ষা বেশ ভালো অভিনয় করেছেন। তাসনিয়া ফারিন, নাজিফা তুষি, তাসনুভা তিশার অভিনয় করার জায়গা খুব বেশি ছিল না, তবে যা সুযোগ পেয়েছেন তাতে তারা ভালোই করেছেন।

নেতিবাচক দিকের কথা বলতে গেলে বলতে হয়, গল্পে চার বন্ধুর রসায়ন, তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব, তাদের প্রেমের ব্যাপারগুলো আরো ভালোভাবে ফুটিয়ে তোলা দরকার ছিল, এতে কিছু কিছু ব্যাপার আরো বিশদভাবে দেখানো যেত। তাসনুভা তিশার চরিত্রটি গল্পের ক্লাইম্যাক্স মুহূর্তে অনেকটা হুট করেই চলে এলো। চরিত্রটির অতীত, চার বন্ধুর সাথে তার সম্পর্ক এসব দেখালে ক্লাইম্যাক্সটা আরো জোরালো হতো বলে মনে হয়। ১ ঘণ্টা ২৯ মিনিটের এই সিনেমাকে আরেকটু দীর্ঘ করলেই এই ব্যাপারগুলো ঠিকঠাক দেখানো যেত।

গল্পের কিছু জায়গায় ছোটখাট সামঞ্জস্যহীনতাও ছিল। যেমন সিনেমার শুরুতেই রাতুলকে “ঘাড়ত্যাড়া” বলে পরিচয় দেওয়া হয়। কিন্তু শুরুর একটি দৃশ্য ছাড়া পুরো সিনেমায় তার ত্যাড়া ঘাড়ের কোনো দেখা পাওয়া যায়নি।

সবশেষে, নেটওয়ার্কের বাইরে কোনো মাস্টারপিস নয়, গভীর কোনো জীবনদর্শনও এই ওয়েবফিল্ম থেকে আপনি খুঁজে পাবেন না। তবে আপনি যদি পর্দায় বন্ধুত্বের গল্প দেখতে চান অথবা পুরোনো বন্ধুদের কথা মনে করে নস্টালজিয়ায় আক্রান্ত হতে চান, তাহলে একবার দেখে নিতে পারেন। খুব একটা খারাপ লাগবে না।

আর যারা এখনো দেখেননি, তাদের বলব ট্রেলার না দেখেই সিনেমা দেখা শুরু করে দিতে। এতে গল্পের শেষটা সম্পর্কে কোনো ধারণা না নিয়েই দেখার মজাটা পাওয়া যাবে।

 


লেখক টিডিএ এডিটোরিয়াল টিমের একজন সদস্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

twenty − 13 =

Leave a comment
scroll to top