জড়ের জীবনাকাঙ্ক্ষা


ময়েজ উদ্দীন আশরাফী


বারান্দার রেলিঙের সামনে বসে আছি। ঠিক বারান্দার রেলিঙের সামনে নয়। আমার টেবিলের সামনে জানালা। জানালার ওপারে বারান্দা। বারান্দার শেষ প্রান্তে রেলিং।

হঠাৎ আকাশ বাবাজি মুখ গোমড়া করে বসল। আবার কী হলো? অবশ্য তার অনেক কষ্ট। সবার মাথার উপর দাঁড়িয়ে জগৎসংসারের সব অনাচার, অরাজকতা, হৃদয় ভারি করা কাণ্ড দেখে তো, তাই। আমি বললাম, “বাপু, এত বয়ে কী লাভ? ঝেড়ে ফেল।”

কথাটা বোধ করি তার কাছে যুক্তিযুক্ত মনে হলো। বিরাট এক গর্জন। তারপরই অঝরে কান্না। তোমরা অবশ্য তাকে বৃষ্টি বলো। তাতে কারো হৃদয়ে লাগে প্রেমের দোলা, কারো মনে আসে গান। “আজ এ বৃষ্টি ভেজা রাতে তুমি নেই বলে…”

তবে একটি ভাল দিক হচ্ছে এই বৃষ্টির কারণে কখনো কিছু কঠিন প্রাণেও হালকা চিলিক দিয়ে ওঠে অনুভূতি। তাতে লাভের কী হলো তা যদি জিজ্ঞাসা করে বসো, সে উত্তর আমার কাছে নেই।

তবে বললাম কেন? জানি না।

এই বৃষ্টিতে কারো হৃদয় যখন প্রেমে আনন্দে প্রফুল্লতায় টলমল, তখন কোন হৃদয়ে আবার বয় বিষণ্ণতার শীতল বাতাস। কারো মনের অবস্থা আবার আমার সামনের রেলিঙটার মতো। বৃষ্টির ফোঁটা রেলিঙটায় পড়ছে, তাকে আগলে রাখার জন্য রেলিঙটার সে কী আপ্রাণ চেষ্টা।

কিন্তু যে চলে যাবার, সে কি থাকে? চলে গেল। শুধু তার সিক্ততায় সিক্ত হয়ে রইল রেলিংটার চোখ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Leave a comment
scroll to top